সিআরবি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার উদ্যোগে কেরানিহাট বাজার পর্যবেক্ষণ
মো: সোহেল তালুকদার (রাকিব)
-
প্রকাশের সময় :
বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫
-
১৫৪
বার পড়া হয়েছে
একজন ব্যবসায়ীর হাতে ভোক্তা অধিকার আইন সচেতনতার লিফলেট বিতরণ করছেন সিআরবি’র বাজার পর্যবেক্ষক টিমের সদস্যবৃন্দ
কনজিউমার নিউজ : চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা প্রতিনিধি : মো: সোহেল তালুকদার (রাকিব)
গত ২১ আগস্ট শনিবার ভলান্টারি মুভমেন্ট ক্রেতা সুরক্ষা আন্দোলন “কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি” এর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার উদ্যোগে সাতকানিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কেরানিহাট বাজারের পণ্য বিপণন ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ কার্যক্রমে সহায়তা করেন সিআরবি লোহাগাড়া উপজেলা শাখা ও সিআরবি সাতকানিয়া উপজেলা শাখার প্রতিনিধি বৃন্দ। বাজার পর্যবেক্ষণে নেতৃত্ব দেন সিআরবি দক্ষিণ জেলা সভাপতি জি এম মাহফুজুর রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলার উপদেষ্টা মোঃ রফিক দিদার, সাধারণ সম্পাদক নুর মিনহাজ, সাতকানিয়া উপজেলা সভাপতি সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আব্দুল আজিজ, সিআরবি বোয়ালখালী উপজেলা সভাপতি সাংবাদিক সোহেল তালুকদারসহ সিআরবি’র বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও গণমাধ্যমকর্মী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক কলিম উল্লাহ, সাংবাদিক আজম সিকদার প্রমুখ।
বাজার পর্যবেক্ষণ কালে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর বিভিন্ন ধারা ও শাস্তির বিধান সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়। ব্যবসায়ীদের দোকানে বাধ্যতামূলকভাবে মূল্য তালিকা প্রদর্শনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯-এর ৩৮ ধারা অনুযায়ী প্রত্যেক দোকানে দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা না হলে অনধিক এক বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
কিন্তু বাস্তবে বাজারের অধিকাংশ দোকানে মূল্য তালিকা প্রদর্শিত হয়নি। কিছু দোকানে তালিকা থাকলেও সেগুলো প্রদর্শন না করে গুটিয়ে রাখা হয়েছিল। এছাড়া সাইনবোর্ডবিহীন দোকান, বিক্রয় রশিদ না দেওয়া, অপরিচ্ছন্ন স্থানে পণ্য মজুত রাখা, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখবিহীন পণ্য বিপণনের মতো অসংখ্য অনিয়ম পর্যবেক্ষণ টিমের নজরে আসে।
সিজল মিষ্টির দোকান পর্যবেক্ষণের সময় এক ক্রেতার কেনা ১ কেজি মিষ্টি যাচাই করে দেখা যায়, ওজনে ১০০ গ্রাম কম পাওয়া গেছে। এ ধরনের প্রতারণা দুঃখজনক এবং আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মিষ্টি ভান্ডার পর্যবেক্ষণ কালে দেখা যায়, অনেক মিষ্টিতে পচা গন্ধ, মাছি-মশা পড়া এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুতকৃত মিষ্টি বিক্রি করা হচ্ছে। হোটেল-রেস্তোরাঁতেও রান্নাঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা ও ফরমালিনমুক্ত ফল বাজারজাত করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয় লোকবলের সীমাবদ্ধতার কারণে উপজেলা পর্যায়ে তদারকি কার্যক্রম খুবই সীমিত। অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর বাজার তদারকি না থাকায় ভোক্তারা প্রতিনিয়ত ভেজাল খাদ্য, নকল ওষুধ ও ওজনে কারচুপির শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে সিআরবি’র স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
প্রশিক্ষণের দাবি
বাজার পর্যবেক্ষণ শেষে সিআরবি’র বাজার টিমলিডার বলেন, “আমরা প্রায়ই দেখি ভোক্তা অধিদপ্তর বাজারে জরিমানা করছে, কিন্তু আইন বিষয়ে ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেই। ব্যবসায়ীরা আইন সম্পর্কে অবগত না থাকলে সচেতন হবেন কীভাবে? দেশে কি ব্যবসা বিষয়ক কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে? জরিমানার টাকা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার পকেট থেকেই ব্যবসায়ীরা উশুল করে নেন। তাই জরিমানার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ দেওয়া এখন সময়ের দাবি।”
তিনি আরও বলেন, ভোক্তা আইন ও জাতিসংঘের নির্দেশনার ৫ম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মানুষের জানার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় কর্তব্য। ব্যবসায়ীদের আইন সম্পর্কে অবহিত না করে জরিমানা করা অন্যায় এবং জনগণের অজ্ঞতার সুযোগ নেওয়া। তাই ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ এখন অত্যন্ত জরুরি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ