বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নরসিংদীতে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় সরকারি সংস্থাগুলোর মাসিক বাজার মনিটরিং প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিতে সিআরবি’র অনুরোধ পত্র হস্তান্তর নরসিংদীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৭৭তম বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন সিআরবি নরসিংদী জেলা শাখার অ্যাক্টিভিস্টদের কার্যক্রম ও কনটেস্ট রুলস নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত জাতীয় নিরাপদ সড়ক চাই শিবপুর উপজেলা শাখা কমিটি ৩২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন ক্রেতা সুরক্ষা আন্দোলন-সিআরবি তেজগাঁও ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা শাখার শপথ  অনুষ্ঠান সম্পন্ন Tejgaon Police Station News Correspondent ভোক্তা অধিকার সচেতনতায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা সদরে সিআরবি’র বাজার পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন সিআরবি শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার উদ্যোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন–২০০৯ বিষয়ে  জনসচেতনতা ও বাজার পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন। বান্দরবানে সিআরবি জেলা শাখা গঠন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নরসিংদীতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অবহিতকরণ ও বাস্তবায়ন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

লাভজনক চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত বন্ধে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চার সমাবেশ

আব্বাস উদ্দীন ধ্রুব
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৮৫ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক নিউজ :

লাভজনক চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত বন্ধ করার দাবিতে ৯ নভেম্বর থেকে ২৩ নভেম্বর সারাদেশে বিক্ষোভ,গণসংযোগ,পদযাত্রার কর্মসূচী এবং এর মধ্যে দাবি না মানলে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে যমুনা ঘেরাও,এরপর প্রয়োজনে হরতাল কর্মসূচী দেওয়া হবে বলে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাম গণতান্ত্রিক জোট ও ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

লাভজনক চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত বন্ধ করার দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে আজ ৮ নভেম্বর,২০২৫,শনিবার, বিকাল ৪ টায় পুরাতন স্টেশন চত্বরের গণসমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এ গণসমাবেশে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ( স্কপ) এর নেতাকর্মীরা বিশাল মিছিল নিয়ে যোগ দেন ও সংহতি জানান।

বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাসদ(মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক এড শফি উদ্দিন কবির আবিদের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র সাবেক সভাপতি শাহ আলম, বাসদ,কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ,বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী,বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, বাসদ(মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণমুক্তি ইউনিয়ন।কেন্দ্রীয় আহবায়ক নাসিরউদ্দিন নাসু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু,বাংলাদেশ সোশ্যালিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম,বাসদ(মাহবুব) এর কেন্দ্রীয় সদস্য আয়ুব রানা। সমাবেশ পরিচালন করেন সিপিবি জেলা যুগ্ম সম্পাদক নুরুচ্ছফা ভুঁইয়া।সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ(স্কপ) এর ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএর সাবেক সেক্রেটারি শ্রমিকনেতা শেখ নুরুল্লাহ বাহার,সিপিবি জেলা সভাপতি অশোক সাহা,গণমুক্তি ইউনিয়ন জেলা সভাপতি রাজা মিঞা,বাসদ জেলা ইনচার্জ আল কাদেরি জয়,সাম্যবাদী আন্দোলন জেলা সমন্বয়ক শাহীন মঞ্জুর।

উপস্থিত ছিলেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি তপন দত্ত, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এসকে খোদা তোতন,শ্রমিকনেতা মৃণাল চৌধুরী,মসিউদৌল্লা, স্কপের যুগ্মসমন্বয়কারী রিজওয়ানুর রহমান খান।

কমরেড বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন,”অন্তর্বর্তী সরকারের কোন এক্তিয়ার নেই লাভজনক বন্দর বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়ার।সরকার বিদেশীদের সাথে চুক্তি করার জন্য যেরকম উঠে পড়ে লেগেছে,বন্দরের মাশুল বাড়ালো,তাতে স্পষ্ট সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।এছাড়া সরকার নানা ইস্যু তৈরি করে নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করছে।নির্বাচন বানচালের কোনো ষড়যন্ত্র জনগণ সফল হতে দেবেনা”

কমরেড শাহ আলম বলেন,“বন্দরের পরিচালনা বিদেশী কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থে একগুঁয়ের মতো আচরণ করছে।দেশের শ্রমজীবি ও সাধারণ মানুষ প্রবল অর্থনৈতিক সংকটসহ হাজারো সমস্যায় পর্যুদস্ত,অথচ সরকারের সেদিকে মনোযোগ নেই,তারা বন্দর,করিডোর নিয়ে সাম্রাজ্যবাদীদের সাথে চক্রান্তে ব্যস্ত। চট্টগ্রাম সূর্যসেন,প্রীতিলতার মাটি।চট্টগ্রামের মানুষ বন্দর নিয়ে সাম্রাজ্যবাদীদের চক্রান্ত সফল করতে দেবেনা

নেতৃবৃন্দ বলেন,“ বাংলাদেশের আমদানি রপ্তানির ৯২ ভাগ চট্টগ্রাম বন্দর দিযে হয়। অর্থাৎ দেশের অর্থনীতি প্রধানতঃ চট্টগ্রাম বন্দরের উপর নিভর্রশীল। বন্দরের মত কৌশলগত সম্পদ নিয়ে যেকোন সিদ্ধান্ত শুধু অর্থনৈতিক লাভ দিয়ে বিচার করা যায়না,দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক-সামরিক নিরাপত্তা,ঝুঁকি ইত্যাদি অনেকগুলো স্পর্শকাতর বিষয় এর সাথে যুক্ত।বিশেষ করে যেখানে আমাদের একটিমাত্র প্রধান বন্দর সেখানে বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে এর কোনো অংশ তুলে দেওয়া আরও ঝুঁকিপূর্ণ। অথচ যেসব দেশের সাথে তুলনা দেওয়া হচ্ছে,সেসব দেশের বন্দরের গভীরতা,বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে নৌ,রেল,সড়কপথে আলাদা করিডোরের ব্যবস্থা- কিছুর সাথেই কি বাংলাদেশের তুলনা খাটে? সিঙ্গাপুর বন্দরের গভীরতা ১৬ মিটার, শ্রীলংকার কলম্বো বন্দরের গভীরতা ১৮ মিটার, ভিয়েতনামের সায়গন বন্দরের গভীরতা ১১ মিটার। এই বন্দরগুলোতে গভীরতার কারণে অনায়াসে বড় জাহাজ ভিড়তে পারে, যেটা চট্টগ্রাম বন্দরে সম্ভব না।কারণ চট্টগ্রাম বন্দর নদী বন্দর হওয়ায় জোয়ারের সময় গভীরতা থাকে সাড়ে ৯ মিটার,ভাটার সময় গভীরতা থাকে ৬/৭ মিটার। নাব্যতার এই সীমাবদ্ধতার কারণে বড় জাহাজ এই বন্দরে ভিড়তে পারে না। প্রাকৃতিক এই সীমাবদ্ধতা কোন বিদেশী অপারেটরের পক্ষে দূর করা সম্ভব নয়। ফলে এই বন্দরের সক্ষমতা একটা সীমার বেশি বাড়ানো সম্ভব নয়।ফলে বিদেশের সাথে প্রেক্ষিতবিহীন তুলনা দিয়ে বিদেশী কোম্পানির হাতে নিউমুরিং টার্মিনাল তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী।”

নেতারা আরো বলেন,“প্রধান উপদেষ্ঠা বিরোধিতাকারীদের প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, এখন চট্টগ্রাম পুলিশ প্রশাসন একমাসের জন্য বন্দর এলাকায় যেকোন সভা- সমাবেশ নিষিদ্ধ করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। দেখা যাচ্ছে,গণঅভ্যুত্থানের পরও বর্তমান সরকার সেই হাসিনার ফ্যাসিবাদী ভাষাতেই কথা বলছেন।

নেতৃবৃনাদ আরো বলে,“ বাংলাদেশের আমদানি রপ্তানির ৯২ ভাগ চট্টগ্রাম বন্দর দিযে হয়। অর্থাৎ দেশের অর্থনীতি প্রধানতঃ চট্টগ্রাম বন্দরের উপর নিভর্রশীল। বন্দরের মত কৌশলগত সম্পদ নিয়ে যেকোন সিদ্ধান্ত শুধু অর্থনৈতিক লাভ দিয়ে বিচার করা যায়না,দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক-সামরিক নিরাপত্তা,ঝুঁকি ইত্যাদি অনেকগুলো স্পর্শকাতর বিষয় এর সাথে যুক্ত।বিশেষ করে যেখানে আমাদের একটিমাত্র প্রধান বন্দর সেখানে বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে এর কোনো অংশ তুলে দেওয়া আরও ঝুঁকিপূর্ণ। অথচ যেসব দেশের সাথে তুলনা দেওয়া হচ্ছে,সেসব দেশের বন্দরের গভীরতা,বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে নৌ,রেল,সড়কপথে আলাদা করিডোরের ব্যবস্থা- কিছুর সাথেই কি বাংলাদেশের তুলনা খাটে? সিঙ্গাপুর বন্দরের গভীরতা ১৬ মিটার, শ্রীলংকার কলম্বো বন্দরের গভীরতা ১৮ মিটার, ভিয়েতনামের সায়গন বন্দরের গভীরতা ১১ মিটার। এই বন্দরগুলোতে গভীরতার কারণে অনায়াসে বড় জাহাজ ভিড়তে পারে, যেটা চট্টগ্রাম বন্দরে সম্ভব না।কারণ চট্টগ্রাম বন্দর নদী বন্দর হওয়ায় জোয়ারের সময় গভীরতা থাকে সাড়ে ৯ মিটার,ভাটার সময় গভীরতা থাকে ৬/৭ মিটার। নাব্যতার এই সীমাবদ্ধতার কারণে বড় জাহাজ এই বন্দরে ভিড়তে পারে না। প্রাকৃতিক এই সীমাবদ্ধতা কোন বিদেশী অপারেটরের পক্ষে দূর করা সম্ভব নয়। ফলে এই বন্দরের সক্ষমতা একটা সীমার বেশি বাড়ানো সম্ভব নয়।ফলে বিদেশের সাথে প্রেক্ষিতবিহীন তুলনা দিয়ে বিদেশী কোম্পানির হাতে নিউমুরিং টার্মিনাল তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী।”

সমাবেশ শেষে একটি মশাল মিছিল পুরাতন স্টেশন থেকে শুরু হয়ে নিউমার্কেট এসে শেষ হয়।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SELF HOST BD
themesba-lates1749691102