ফিটনেসবিহীন গাড়িতে বিআরটিএ ড্রাইভিং টেস্ট বন্ধ ও পরীক্ষার মাঠে সিসিটিভি স্থাপনের দাবি সিআরবি’র
আব্বাস উদ্দীন ধ্রুব
-
প্রকাশের সময় :
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
-
৭৬
বার পড়া হয়েছে
বিশেষ প্রতিনিধি : ঢাকা, ১১ জুন :
ক্রেতা সুরক্ষা আন্দোলন-ভলান্টারি মুভমেন্ট কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ (সিআরবি) বিআরটিএর ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি ব্যবহার বন্ধ এবং প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার মাঠ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ১টায় নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে সিআরবির মহাসচিব কে জি এম সবুজ স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমান-এর হাতে তুলে দেন সিআরবির ঢাকা ডিভিশনাল অ্যাম্বাসেডর আব্দুল হান্নান মানিক।
স্মারকলিপিতে সিআরবি উল্লেখ করে, ২০০৭ সাল থেকে সংগঠনটি ক্রেতা অধিকার ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে আসছে। সম্প্রতি বিআরটিএ এবং বেসরকারি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে ফিটনেসবিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি দিয়ে প্রশিক্ষণ এবং প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। অনেক গাড়ির ব্রেক, গিয়ার, ক্লাচসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সঠিকভাবে কাজ না করায় নতুন শিক্ষার্থীরা ঝুঁকির মুখে পড়ছেন এবং পরীক্ষার ন্যায্য মূল্যায়ন ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া কিছু প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অনুমোদনহীন বা লাইসেন্সবিহীন প্রশিক্ষকের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরা হয়। সিআরবির মতে, বিআরটিএর লিখিত, মৌখিক ও বায়োমেট্রিক পরীক্ষার পদ্ধতি আধুনিক হলেও প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এখনও ঘাটতি রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে অনিয়ম, আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ এবং বৈষম্যমূলক মূল্যায়নের কারণে দক্ষ চালক তৈরির লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে।
এ অবস্থায় নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সিআরবি সাত দফা দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
-
ফিটনেসবিহীন বা ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি দিয়ে প্রশিক্ষণ ও ড্রাইভিং টেস্ট গ্রহণ অবিলম্বে বন্ধ করা।
-
বিআরটিএর সকল প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার মাঠে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং পরীক্ষার ভিডিও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা।
-
অভিযোগের ক্ষেত্রে ভিডিও পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রাখা।
-
প্রতিটি প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষক কর্তৃক পরীক্ষার পদ্ধতির বাধ্যতামূলক ডেমোনস্ট্রেশন প্রদান।
-
শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত ও অনুমোদিত প্রশিক্ষণ গাইডলাইন বাস্তবায়ন।
-
সরকারি ও বেসরকারি সকল ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত তদারকি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকর অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা চালু করা।
-
মোটরসাইকেল ও কারের পরীক্ষার মানদণ্ড আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে মূল্যায়ন করা।
স্মারকলিপিতে সিআরবি আরও আশা প্রকাশ করে যে, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততার আলোকে নিসচা বিষয়টি নিয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে এবং দক্ষ ও দায়িত্বশীল চালক তৈরির প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হবে। সেই সাথে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত হবে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ