রবি, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১১ সকাল
শিরোনাম :
সিআরবি কক্সবাজার জেলা শাখার নবগঠিত কমিটির শপথ গ্রহণ সম্পন্ন সিআরবি’র সাভার উপজেলা শাখার নবগঠিত কমিটির শপথ গ্রহণ সম্পন্ন ক্রেতা-সুরক্ষা আন্দোলন-কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি’র সিলেট বিভাগীয় শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন মাছের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সিআরবির স্মারকলিপি প্রদান নালা পরিষ্কারের পর সড়কে ময়লার স্তূপ: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ‘হটকারী উন্নয়ন’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে-সিআরবি। নরসিংদী বড় বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান, জরিমানা ২০ হাজার টাকা নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর ১১তম মহাসমাবেশ সফলভাবে অনুষ্ঠিত। ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে ইউএনও’র সঙ্গে সিআরবি ছাতক উপজেলা শাখার মতবিনিময় ভোক্তা অধিকার রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সিআরবি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখার স্মারকলিপি হস্তান্তর নরসিংদীর শিবপুরের নিরাপদ সড়ক চাই কমিটির আলোচনা সভা ও আইডি কার্ড বিতরণ।

না আমি শোকার্ত নই, আমি ক্ষুব্ধ-ক্রুদ্ধ

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০
  • ৩৫৭ বার পড়া হয়েছে

সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হয়ে বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন কবি ও লেখক ফরিদ কবিরের মা। এ নিয়ে রোববার ফেসবুকে ‘না। আমি শোকার্ত নই।আমি ক্ষুব্ধ। ক্রুদ্ধ।’শিরোনামে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস লিখেছেন বারডেমের উচ্চ পর্যায়ে কর্মরত এই কবি। ওই স্ট্যাটাসে তিনি করোনা চিকিৎসার নানা অনিয়ম তুলে ধরেছেন। গোপন থাকে চিকিৎসকদের প্রতিও তার বিরক্তভাব। বাংলাদেশ জার্নালের পাঠকদের জন্য ফরিদ কবিরের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

‘এখনো মনে করি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আমার মাকে হয়তো হারাতে হতো না! তিনি হয়তো যথাযথ চিকিৎসাটা পেতেন, যেটা তিনি পাননি। এখনো, গত দু’মাসে করোনায় কিংবা করোনার লক্ষণ নিয়ে যারা মারা গেছেন তার দায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লোকজনকেই নিতে হবে।

তারা কী উদ্দেশ্যে বেসরকারি বা প্রাইভেট হাসপাতালগুলোকে করোনা টেস্ট ও করোনা চিকিৎসা থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে- তার জন্য তাদেরকে জবাবদিহির আওতায় আনা দরকার। স্বাস্থ্যব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়ার পরই কেবল তারা সম্প্রতি একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে করোনা টেস্টসহ করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে।

আমি মনে করি, মন্ত্রণালয় এককভাবে কিট ও রিএজেন্ট কেনাকাটা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতেই বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে করোনা টেস্ট থেকে এতোদিন দূরে সরিয়ে রেখেছিলো!

করোনা রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও একই পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে। পিপিই, মাস্ক, গ্লাভস, ভেন্টিলেটরসহ হাসপাতালের বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনাকাটা নিজেদের হাতে রাখতেই করোনার চিকিৎসাও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লোকজন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

আর এর ফলে, প্রকৃত চিকিৎসা কেউ পাননি! কোভিড হাসপাতালগুলো রোগীর তুলনায় ভয়াবহভাবে অপ্রতুল। সরকারি ৪-৫টি হাসপাতালে আইসিইউর বেড সাকল্যে শ খানেক। কিন্তু রোগী কয়েক হাজার। যে হাসপাতালগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগেরই উন্নত চিকিৎসা দেয়ার সামর্থ্যই নেই। আপনারাই বলুন, স্বাভাবিক অবস্থা থাকলে আপনারা কেউ কুয়েত মৈত্রী বা মুগদার মতো হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যেতেন কিনা? শুনেছি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লোকজনও চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন সিএমএইচে! কোভিড হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হওয়া এতোটাই কঠিন যে খুব কম রোগীই তার সন্ধান পান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্তারা যদি বলেন, তারা আসলে বুঝতেই পারেননি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এতোটা লেজেগোবরে হবে, তাহলে বুঝতে হবে, তারা সবাই বেকুব এবং এমন একটি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের দায়িত্ব সামলানোর বোধ-বুদ্ধি ও যোগ্যতা তাদের নেই! এ অবস্থায় তাদেরকে সেখান থেকে কেন এখনো সরানো হচ্ছে না?

কাজেই, তাদের এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে যারা করোনায় কিংবা করোনার লক্ষণ নিয়ে বিনা চিকিৎসায় কিংবা যথাযথ চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন তাদের দায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কেই নিতে হবে। এর জন্য তাদেরকে দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনা দরকার। দরকার একটা তদন্ত কমিটি করারও।

অন্যদিকে, করোনা ও করোনার লক্ষণ ছিলো এমন রোগীদের চিকিৎসা নিতে গিয়ে যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ হলো, এটার জন্য সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর উচিত সংগঠিত হওয়া। অপরাধীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। এমন বিপর্যয়ের দিনে মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে, জীবন নিয়ে যারা খেলেছে তাদের সাধারণ কোনো শাস্তি মোটেও যথেষ্ট নয়।

মিডিয়াগুলোরও উচিত এ বিষয়ে জোর দেয়া। ক্রমাগত বিষয়টিকে সামনে এনে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

এ ছাড়া, চিকিৎসকসমাজও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই বেহাল দশার জন্য অনেকটাই দায়ী। এখন সমস্ত হাসপাতালের হাল ধরে আছেন প্রধানত জুনিয়র ও তরুণ ডাক্তাররাই। সিনিয়র বা অধ্যাপক পর্যায়ের চিকিৎসকদের প্রায় কেউই হাসপাতালে যাচ্ছেন না। এমন একটা ভয়ংকর যুদ্ধে তাদের অধিকাংশই ময়দানে নেই। এটা হতে পারে না।

এ কথা প্রযোজ্য বারডেম হাসপাতালের ক্ষেত্রেও। আমার মা ২৪ ঘণ্টা এ হাসপাতালে ছিলেন। আমি সেখানকার মোটামুটি একজন পদস্থ কর্মী হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধান আমার মাকে দেখতে যাননি! করোনার লক্ষণ থাকায় ডিউটি ডাক্তার ও নার্সরাও তার যথাযথ দেখভাল করেননি!

গ্রিনলাইফের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সিনিয়র চিকিৎসকরা চিকিৎসাব্যবস্থার সঙ্গে খুব একটা যুক্ত ছিলেন না। অন্তত আমি কোনো সিনিয়র চিকিৎসককে সেখানে দেখিনি! তারা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন কিনা সেটা অবশ্য আমার জানা নেই।

আমার মতে, সিনিয়র চিকিৎসকদের কেউ যদি করোনাভাইরাসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকেন, তাহলে মোবাইল বা ল্যাপটপের মাধ্যমেও তারা যুক্ত হতে পারেন।

চিকিৎসাপেশা অন্য পেশাগুলোর মতো নয়। এটি একটি মহান পেশা। কারণ এই পেশায় সেবা দেয়ার আগে চিকিৎসকদেরকেই কেবল ‘ওউথ’ নিতে হয়। কাজেই সিনিয়র কোনো চিকিৎসক যদি স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি দেখিয়ে এই বিপর্যয়ের দিনে একেবারেই নিরব ও নিষ্ক্রিয় থাকেন তাহলে তাদের চিহ্নিত করা দরকার এবং তাদের বিএমডিসি’র রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা দরকার। তাদের এটা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে অধ্যাপক একে আজাদ খানের বয়স প্রায় ৭৮ বছর হওয়া সত্ত্বেও নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় প্রতিদিন তিনি সমিতির বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করেছেন!

ষাটের বেশি বয়স যাদের তারা সরাসরি মাঠে না থাকতে পারেন, কিন্তু পুরো চিকিৎসাব্যবস্থার সঙ্গে দ্বিতীয় সারিতে পরামর্শক হিসেবে কেন যুক্ত থাকবেন না?

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন যাদের হাতে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে তাদেরকে বহাল রেখে এবং দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এমন বেহাল অবস্থায় রেখে ‘উন্নয়নের জোয়ার’ কতোদিন বজায় থাকবে- সেটা নিয়ে অবশ্যই নীতিনির্ধারকদের ভাবতে হবে।

শেষ করি একটা ছোট্ট অভিজ্ঞতা দিয়ে।

আম্মা মারা যাওয়ার পর হাসপাতালের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দফতরে জানানো হয়। করোনায় কোনো রোগী মারা গেলে তাদেরকে জানানোটাই নাকি এখনকার নিয়ম। এর পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ‘আল মারকাজুল ইসলাম’কে জানানো। তারা হাসপাতালে এসে লাশ দাফন-কাফনের উদ্যোগ নেবে। কিন্তু তারা কখন আসবে?

বিষয়টি একেবারেই অনিশ্চিত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যথাসম্ভব দ্রুততার সঙ্গেই বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে জানিয়ে দিয়েছে। এরপরে বাকি কাজটা মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভরশীল। তারা কখন ‘আল মারকাজুল ইসলাম’কে জানাবে, কখন ‘আল মারকাজুল’ আসবে সেটা কেউ জানেন না।

যতোদূর শুনেছি, সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর খোকনের লাশ নিতে ১৪ ঘন্টা সময় লেগেছিলো। সাংবাদিক নেতারা এ বিষয়ে তদবির সত্ত্বেও। সাজ্জাদের স্ত্রী শাওন জানালো, ‘আল মারকাজুলের’ সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেলেই তারা আসবে।

ও আরও জানালো, আমি এক বন্ধুকে ফোন করেছি, মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে যোগাযোগ করতে বলেছি।

আমি নিজেও আমার সহপাঠী সুভাষ সরকার পিন্টুকে কল দিলাম। পিন্টু কিছুদিন আগেও এই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ছিলো। ওকে বিষয়টা বলতেই ও জানালো, দোস্ত চিন্তা করিস না। আমি দেখতেছি।

মিনিট পাঁচেক পরেই ও ফোনে জানালো, আজম নামে এক যুগ্মসচিব এটার দায়িত্বে। আমি বলে দিয়েছি। তারপরেও তুই তার নম্বরটা রাখ। কোনো সমস্যা হলে তার নম্বরে আমার রেফারেন্সে কথা বলে নিস।

পিন্টু এও জানালো, ‘আজম ছেলে ভালো! এখনই তোর বিষয়টা দেখবে বলেছে’! সেই প্রমাণ অবশ্য মিললো। মিনিট পাঁচেক পরে মারকাজুল থেকে ফোনে শাওনকে একজন জানালেন, তারা এইমাত্র নির্দেশ পেয়েছেন। যতো দ্রুত সম্ভব তারা আসছেন।

দু’পক্ষই অপ্রত্যাশিত ভালো আচরণ করলেন। এম্বুলেন্সসহ ছ-সাতজনের একটা দল এসে হাজির হলো আধঘন্টার মধ্যেই।কথা হচ্ছে, সকল মানুষই যে এতটা সদয় আচরণ পাবেন এটা আশা করা দুরাশাই। কজনইবা সহজে পৌঁছুতে পারবেন যুগ্মসচিব কিংবা মারকাজুল পর্যন্ত!

করোনা যতোটা না অভিশাপ, তার চাইতে বেশি ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে রেখেছেন আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও এই মন্ত্রণালয়ের লোকজন।

দয়া করে তাদেরকে থামান।’

এমএ/

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved