মাছের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সিআরবির স্মারকলিপি প্রদান
আব্বাস উদ্দীন ধ্রুব
-
প্রকাশের সময় :
বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
-
১১২
বার পড়া হয়েছে
জাতীয় মৎস্য পক্ষের আগে ৪৩ জেলায় একযোগে স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্যোগ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
“মাছে-ভাতে বাঙালি”—বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও খাদ্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ মাছ। অথচ স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশে মাছের জন্য একটি স্বচ্ছ ও সরকারি মূল্যকাঠামো না থাকায় একদিকে প্রান্তিক মৎস্যচাষি ও জেলেরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তাকে গুনতে হচ্ছে অস্বাভাবিক দাম। এমন অভিযোগ তুলে মাছের যৌক্তিক উৎপাদন/আহরণ মূল্য ও ন্যায্য খুচরা বিক্রয়মূল্য নির্ধারণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ক্রেতা সুরক্ষা আন্দোলন-ভলান্টারি মুভমেন্ট কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ (সিআরবি)।
বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১১টায় সিআরবির কেন্দ্রীয় দপ্তরের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। সিআরবির পণ্য ও পরিষেবা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিআরবির মহাসচিব-ডিজাইনার কেজিএম সবুজ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার সভাপতি জিএম মাহফুজুর রহমান, মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব হাসান সেলিম, সার্ভিস ফি ও পণ্য মূল্য পর্যবেক্ষণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাফর, সিআরবি কল সেন্টারের সমন্বয়ক মোহাম্মদ জিয়াউল হক খোন্দকার, জনসংযোগ কর্মকর্তা পারভিন আকতার, এম কায়সার উদ্দিনসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সিআরবি জানায়, আগামী ১৬ আগস্ট জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে দেশের ৪৩টি জেলার জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একই দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে স্মারকলিপি প্রদানের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, মাছ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমিষের উৎস এবং মৎস্য খাত লাখো মানুষের জীবিকা ও জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। মৎস্য খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান কাজ করলেও উৎপাদন বা আহরণ থেকে শুরু করে পরিবহন, সংরক্ষণ, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে মাছের একটি সমন্বিত ও স্বচ্ছ মূল্যকাঠামো না থাকায় বাজারে মূল্য অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।
সিআরবির দাবি, উৎপাদন/আহরণমূল্য, পরিবহন ব্যয়, সংরক্ষণ ব্যয়, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের যৌক্তিক মুনাফা বিবেচনায় নিয়ে প্রজাতি ও অঞ্চলভিত্তিক মাছের মূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্ধারিত মূল্যতালিকা সরকারি ওয়েবসাইট, গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বাজারে নিয়মিত প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, দেশের জাতীয় মাছ ইলিশসহ নদী ও সামুদ্রিক মাছের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় আমিষ গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ছে। উৎপাদন মৌসুমেও অনেক সাধারণ মানুষ ইলিশ কিনতে পারছেন না—এ পরিস্থিতি ভোক্তা স্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে সিআরবি।
সিআরবির ৫ দফা দাবি
১. জেলা ও প্রজাতিভিত্তিক মাছের যৌক্তিক উৎপাদন/আহরণ বা ল্যান্ডিং মূল্য এবং খুচরা বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ ও নিয়মিত প্রকাশ।
২. ইলিশসহ নদী ও সামুদ্রিক মাছের আহরণ, বিপণন ও মূল্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নীতিমালা প্রণয়ন।
৩. নির্ধারিত মূল্যতালিকা সরকারি ওয়েবসাইট, গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বাজারে নিয়মিত প্রকাশ।
৪. উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত অতিরিক্ত মুনাফা ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকর বাজার মনিটরিং ও আইন প্রয়োগ।
৫. মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে জাতীয় মৎস্য মূল্য পর্যবেক্ষণ ও মূল্য-তথ্য ব্যবস্থা চালু।
সিআরবি আশা করছে, আগামী ১৬ আগস্ট জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন উপলক্ষে সরকার মৎস্যচাষি, জেলে, ব্যবসায়ী ও ভোক্তার স্বার্থের
সিআরবি আশা প্রকাশ করেছে, আগামী ১৬ আগস্ট জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬–এর উদ্বোধন উপলক্ষে সরকার মৎস্যচাষি, জেলে ও ভোক্তার স্বার্থ সমন্বয় করে মাছের একটি ন্যায্য, যৌক্তিক ও স্বচ্ছ মূল্যব্যবস্থা প্রবর্তনের ঘোষণা দেবে।
সংগঠনটির মতে, এ ধরনের মূল্যব্যবস্থা চালু হলে প্রান্তিক মৎস্যচাষি ও জেলেরা ন্যায্য মূল্য পাবেন, ভোক্তারা যৌক্তিক দামে মাছ কেনার সুযোগ পাবেন এবং একই সঙ্গে মৎস্য বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ