নালা পরিষ্কারের পর সড়কে ময়লার স্তূপ: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ‘হটকারী উন্নয়ন’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে-সিআরবি।
সংবাদ দাতার নাম
-
প্রকাশের সময় :
সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
-
৩৩
বার পড়া হয়েছে
কনজিউমার নিউজ : চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
নালা পরিষ্কার করে ময়লা সড়কের ওপর ফেলে রাখায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি এবং বৃষ্টির পানিতে সেই ময়লা পুনরায় নালায় গিয়ে পড়ার অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) চলমান নালা পরিষ্কার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ক্রেতা সুরক্ষা আন্দোলন—সিআরবি। একই সঙ্গে, ময়লা উত্তোলনের সঙ্গে সঙ্গে তা অপসারণ করতে না পারলে সংশ্লিষ্টদের এ ধরনের কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সিআরবির অভিযোগ, চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় নালা পরিষ্কারের অংশ হিসেবে গত ২ আগস্ট থেকে দেওয়ান বাজার সিএনবি কলোনির সামনের নালার স্ল্যাব সরিয়ে ময়লা উত্তোলন শুরু করা হয়। পরপর তিন দিন নালা থেকে ময়লা তোলা হলেও সেগুলো দ্রুত অপসারণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ পড়ে থাকায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
সংগঠনটির দাবি, দীর্ঘ সময় ময়লা পড়ে থাকার কারণে ৫ ও ৬ আগস্টের বৃষ্টিতে স্তূপ করে রাখা ময়লার বড় একটি অংশ বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে পুনরায় নালায় গিয়ে পড়ে। ময়লা উত্তোলন করার পরের অবস্থা। এতে নালা পরিষ্কারের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সিআরবি।
সিআরবির ভাষ্য, একদিকে নালা পরিষ্কারের জন্য সরকারি অর্থ ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে উত্তোলন করা ময়লা যথাসময়ে অপসারণ না করায় তা আবার নালায় ফিরে যাচ্ছে। ফলে নগরবাসীর অর্থ ও শ্রম—দুটিই অপচয় হচ্ছে।
সংগঠনটি আরও অভিযোগ করেছে, নগরের আসকারদিঘীর পাড়স্থ বাজার এলাকায় নালা পরিষ্কারের পর সড়কের ওপর ময়লার স্তূপ রেখে দেওয়া হয়েছে। সেখানে মেয়রের ছবি ব্যবহার করে প্রচারণা চালানোর বিষয়টিও প্রশ্ন তুলেছে সিআরবি।
সিআরবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নগরীর উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অবশ্যই প্রয়োজন। তবে এমন উন্নয়ন কার্যক্রম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে এবং পরিষ্কার করা ময়লা আবার নালায় গিয়ে পড়লে সেটিকে কার্যকর উন্নয়ন বলা যায় না।
সিআরবি বলছে, “মেয়র নিজের ব্যক্তিগত অর্থে নয়, নগরবাসীর করের অর্থে সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তাই জনস্বার্থের সেবামূলক কাজে ব্যক্তিগত প্রচারণার পরিবর্তে কাজের মান ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত।”
সংগঠনটির অভিযোগ, দায়িত্বশীলদের অযোগ্যতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে নগরবাসীকে দিনের পর দিন সড়কের ওপর পড়ে থাকা ময়লা, দুর্গন্ধ ও চলাচলের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় সিআরবির দাবি—
১. নালা থেকে ময়লা উত্তোলনের সঙ্গে সঙ্গে তা অপসারণ করতে হবে।
২. ময়লা অপসারণে সক্ষমতা নেই—এমন ঠিকাদার বা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে হবে।
৩. সড়কের ওপর দিনের পর দিন ময়লার স্তূপ রেখে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি বন্ধ করতে হবে।
৪. নালা পরিষ্কারের পর পুনরায় ময়লা নালায় ফিরে যাচ্ছে কি না, তা তদারকির ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. নাগরিক অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও উন্নয়নকাজে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
৬. জনস্বার্থবিরোধী ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ করে সমন্বিত নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
সিআরবি জানিয়েছে, নগরবাসীর ভোগান্তি কমানো এবং সরকারি অর্থের অপচয় রোধে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলকভাবে নালা পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
সিআরবির আহ্বান—উন্নয়ন হোক, তবে তা যেন নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়িয়ে নয়; বরং নাগরিক স্বস্তি, পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করেই হোক।
এ বিভাগের আরো সংবাদ